কপ-২৬ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জামালপুরে সনাক-টিআইবি’র মানববন্ধন

জামালপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২১ |   

কয়লাভিত্তিক জ্বালানি নয় বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর নীতি ও বিনিয়োগের দাবিতে  দুপুরে জামালপুর এর দয়াময়ী মোড় এলাকায় এক মানববন্ধন  অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে ২৬তম কপ সম্মেলনকে সামনে রেখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারনেশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জামালপুর কপ সম্মেলনের প্রাক্কালে রবিবার(৩১ অক্টোবর) শহরের দয়াময়ী মোড়ে উক্ত মানববন্ধনের আয়োজন করে। সনাক-জামালপুর এর সভাপতি অজয় কুমার পাল-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন কার্যক্রমের সাথে সংহতি প্রকাশ করে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন জামালপুর শাখা, পরিবেশ বাচাও আন্দোলন জামালপুর, পরিবেশ ক্লাব জামালপুর, প্রকৃতি ও মানুষ, তরঙ্গ মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, ব্র্যাক, সনাক, স্বজন, ইয়েসসহ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ।

সনাক সদস্য আশরাফুজ্জামান স্বাধীন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে রামপাল, মাতারবাড়ি, বাঁশখালী প্রকল্পসহ মোট ১৯টি কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে যা বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম কয়লা দূষণকারী দেশে রূপান্তরিত করবে। এটি কার্বন নিঃসরণ কমানো সংক্রান্ত সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক। এ প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের পর কয়লা জ¦ালানি নির্ভর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন না করার ঘোষণা প্রদানের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষমাত্রা অর্জনে কার্যকর নীতি ও বিনিয়োগের দাবি জানানো হয় সভা থেকে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ুর কারণে যে ঝুকি সৃষ্টি হচ্ছে তা মোকাবিলার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু তহবিলের হার আরো বৃদ্ধির বিষয়ে জোর প্রদান করেন বক্তারা, বিশেষ করে নদী ভাঙ্গন ও বন্যা প্রবণ এলাকর জন্য।

মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম, পরিবেশ বাচাও আন্দোলন, জামালপুরের সভাপতি এ্যাড. ইউসুফ আলী, জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এমএ জলিল,  তরঙ্গ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী মো: মনির হোসেন খানসহ প্রমূখ।

মানববন্ধনের শুরুতে মানববন্ধন উপলক্ষ্যে ধারণাপত্র ও সনাক-টিআইবি’র সুনির্দিষ্ট আট দফা সুপারিশমালা পাঠ করেন ইয়েস দলনেতা আফিয়া আফসানা। বাংলাদেশ কর্তৃক কপ-২৬ সম্মেলনে উত্থাপনযোগ্য আট দফা সুপারিশমালায় রয়েছে: জলবায়ু বিষয়ক নীতি নির্ধারণে জীবাশ্ম জ¦ালানি কোম্পানিদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করেতে হবে; ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্র অর্জনে আইএনডিসিসহ প্রশমন বিষয়ক সকল কার্যক্রমে উন্নত দেশগুলোর স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শতভাগ জ¦ালানি উৎপাদনে উন্নত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে সিভিএফ এর পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে দাবি উত্থাপন করতে হবে;  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উন্নত দেশগুলোকে প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল প্রদান করতে হবে; জিসিএফসহ জলবায়ু তহবিলে ঋণ নয়, অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা অনুদান হিসাবে প্রদান করতে হবে; দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় একটি ক্ষয়-ক্ষতি বিষয়ক আলাদা তহবিল গঠন করতে হবে; ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণ এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সাথে প্রস্তুতে একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে এবং ঝুঁকি বিনিময়ে বীমার পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে; জিসিএফ এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করে যথাসময়ে ও দ্রুততার সাথে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশে অভিযোজন এবং প্রশমন বিষয়ক ৫০:৫০ অনুপাত মেনে অর্থায়ন করতে হবে।


মন্তব্য লিখুন :