বাংলাদেশি ব্যাটাররা কেন শটস খেলেন?

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক : | প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২১ |   

এই তো নভেম্বরের শেষ দিকে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্র করলো নিউজিল্যান্ড রাচিন রবীন্দ্র-অ্যাজাজ প্যাটেলের ব্যাটে। ১৫৫ রানে নবম উইকেট পতনের পর চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় তারা খেলেন ৯ ওভার। মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশ দলের সামনেও ছিল এমন উপলক্ষ। ঘরের মাঠে উইকেট আকড়ে থাকতে পারলেই ম্যাচটা ড্র করা যেত। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটাররা পারেননি সেই চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে। অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটে এমন চাপের মঞ্চে পারফর্ম করার অতীতও নেই বাংলাদেশ দলের। যার কারণে ২১ বছর পার করেও এই ফরম্যাটে ধুঁকছে টাইগাররা। তাইজুল আউট হলে নিশ্চিত হয় ইনিংস ও ৮ রানের হার। তখন দিনের বাকি ছিল মাত্র ৫ ওভার। মিরপুরে গত বুধবার সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে ৪ উইকেট পতনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ মুশফিক-লিটনের ব্যাটে। তাদের বিদায়ের পর সাকিব-মিরাজের জুটি আশাবাদী করে তুলেছিল। কিন্তু পার্টটাইম বোলার বাবর আজমকে সুইপ করতে গিয়ে এলবির ফাঁদে পড়েন ৭০ বলে ১৪ রান করা মিরাজ। কার্যত তখনই ড্রয়ের আশা কমে আসে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুমিনুল হক অবশ্য বলেছেন, কেউ আক্রমণাত্মক খেলেনি। যেভাবে তারা ব্যাটিং করেছেন, তাতে ভুল নেই। সাকিব-মুশফিকদের গুরু প্রখ্যাত কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম অবশ্য, এমনটা মনে করছেন না। তার মতে, নিজেদের ডিফেন্সে আস্থা নেই ব্যাটারদের। যেখানে শুধু ডিফেন্স করেই ম্যাচটা ড্র করা যেত। সেখানে এমন ব্যাটিং গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম ইনিংসে শটস খেলতে গিয়েই সবাই উইকেট দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্রটা বদলে ছিল। মুশফিক ১৩৬ বলে ৪৮, লিটন ৮১ বলে ৪৫, সাকিব ১৩০ বলে ৬৩ রান করেছেন। ব্যাটিং ধরন কোনটা কার্যকর, তা ব্যাটাররা দুই ইনিংসের মাঝেই স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে যে মুশফিক-সাকিব খেললো, রান করলো। সেটা তো প্রথম ইনিংসের তুলনায় রক্ষণাত্মক। এটা কীভাবে খেললো? এবং খুব সফলও তারা। তাদের খেলায় তারা বুঝিয়ে দিলো, কোনটা সঠিক ধরন।’ অভিজ্ঞ এ কোচ বাকি দলগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট শুধু আমরা খেলি না, সারা পৃথিবীতে আরও দেশ খেলে। আমরা দেখেছি একটা ম্যাচ ড্র করার জন্য দলগুলো সেশনের পর সেশন ডিফেন্স করে যাচ্ছে।’ ব্যাটারদের নিজেদের ডিফেন্সে আস্থা নেই বলেই ক্রমাগত শটস খেলছেন উইকেটে গিয়ে। নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘যখন দরকার তখন ডিফেন্স করতেই হবে। নিজের ডিফেন্সের ওপর যদি আত্মবিশ্বাস না থাকে তাহলে সমস্যা। প্রথম ইনিংসে কেউ ডিফেন্স করেনি, দ্বিতীয় ইনিংসে তারাই দেখালো যে ডিফেন্স করা সম্ভব।’ দিনের বাকি ছিল ১৪ ওভারের মতো। তখন মিরাজের সুইপ খেলার চেষ্টাটা অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। বিকেএসপির বর্তমান ক্রিকেট উপদেষ্টা বলেন, ‘ড্র করা যখন লক্ষ্য, তখন এমন ঝুঁকি নেওয়ার কারণ নেই। মিরাজ যেটা করলো এটার কোনো মানে নেই। ওটা ছক্কা হলেও তো লাভ নাই।’



মন্তব্য লিখুন :