খুলনা শিপইয়ার্ডে ‘নেভাল এনসাইন-১০’ দিবস উদযাপিত

আবু হামজা বাঁধন : | প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২১ |   

বিশেষ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর উদ্যোগে ‘নেভাল এনসাইন-১০’ দিবস উদযাপিত হয়েছে । দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডে, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন এবং দু:স্থ, অসহায় ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেন, (ই), এনইউপি, পিএসসি, পিএইচডি, বিএন দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ শেষে রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয়। তিনি নিজে স্বেচ্ছায় রক্ত প্রদানের মাধ্যমে এ কর্মসূচি উদ্ধোধন করেন। এছাড়া বাদ জুম্মা বিশেষ মোনাজাত ও রাতে আলোক সজ্জার আয়োজন করা হয়।

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেন বলেন, ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ন দিন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পদ্মা-পলাশের খুলনা অভিমুখে অভিযান নৌবাহিনীর জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করার লক্ষে উজ্জ্বল অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী অধ্যায়েও এদিনে সাথে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক অম্লান স্মৃতি। ১০ ডিসেম্বর তারিখটি নৌবাহিনীর আত্মপ্রকাশ, বিকাশ ও গৌরবের সাথে একাত্ম হয়ে রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ন দিনটি যথাযোগ্য মার্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে উদযাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রক্ষা এবং নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ও জনসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রানিতকরণের লক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজঢ়িত ১০ ডিসেম্বরে বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠান ‘নেভাল এনসাইন-১০’ সাড়ম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।

‘নেভাল এনসাইন-১০’ দিবসে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেন বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ বছরে ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে ( ২৭ এপ্রিল, ৬ মে এবং ১৪ জুলাই) দরিদ্র কর্মহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী এবং রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২০২০ সালেরও করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে একাধিকবার ত্রাণ বিতরণ করা হয়। খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড প্রতি বছর অত্র অঞ্চলের বেকার ৫০০ তরুনকে কারিগরি প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে, যারা কর্মক্ষম জনশক্তিতে ও জাতি গঠনে অবদান রাখছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন । তিনি বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাহাজ নির্মান ও মেরামতকারী একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট, দুটি এলপিসি ও দুটি সাবমেরিন টাগ বোট সাফল্যজনকভাবে নির্মানের পর এ ইয়ার্ডের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের সর্বোচ্চ-আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত অর্ধযুগ ধরে তার অবস্থান অক্ষুন্ন রেখেছে। ‘নেভাল এনসাইন-১০’ দিবস পালনে খুলনা শিপইয়ার্ডের নৌ-বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সাল থেকে খুলনা শিপইয়ার্ড জাহাজ নির্মান ও মেরামতের কাজ শুরু করে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এ প্রতিষ্ঠানটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ স্টীল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নব্বই দশকের শেষের দিকে অধিকাংশ সময় প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্যভাবে লোকসান করতে থাকে। ফলে এটিকে রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করত: প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের নিকট হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে ১৯৯৯ সালে ৩ অক্টোবর ৭৫ কোটি টাকা দায় দেনাসহ খুলনা শিপইয়ার্ডকে পরিচালনার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় হতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুরদর্শিতা সম্পন্ন দিক নির্দেশনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্বের সব দেনা পরিশোধ করে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে


মন্তব্য লিখুন :