ফুলতলায় অর্থের বিনিময় মিলছে চিকিৎসক হওয়ার সার্টিফিকেট: নেপথ্যে ইকবাল

খুলনা থেকে আবু হামজা বাঁধন : | প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী ২০২২ | আপডেট: ০৭ জানুয়ারী ২০২২ |   

খুলনার ফুলতলায় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন যাবৎ চিকিৎসক হওয়ার ডিপ্লোমা সনদ বিক্রি করছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ইকবাল নামে এক স্কুল শিক্ষক। তথ্যমতে, জামিরা রোডে ফুলতলা-প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) ডাক্তার ও নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অন্তরালে চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য। ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি, ডিপ্লোমা ইন ক্লিনিক্যাল নার্স, ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষনের সনদ মুহুর্তের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ দিলেই মিলবে ।  যদিও তাদের বিভিন্ন প্রচারপত্র বা লিফলেটে কোর্স গুলো ৩ বছরের কথা উল্লেখ রয়েছে। তারপরেও এই পিটিএফ প্রশিক্ষন কেন্দ্রের শাখা পরিচালক ইকবালকে টাকা দিলে সার্টিফিকেটের যোগাড় করে দেন। এ যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ। ৩ বছরের কোর্সে পরীক্ষা ও ক্লাস করার প্রয়োজন নাই। শুধু মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন। তাতেই মিলবে ডাক্তারী পেশায় যোগদানের অঘোষিত লাইসেন্স। 

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ফুলতলার করিমুননেছা স্কুলের সহকারী  শিক্ষক ইকবাল মোল্যা। দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। তবে হঠ্যাৎ শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি নতুন এক অভিনব ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন। খুলেছেন ডাক্তার ও নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। করিমুননেছা স্কুলটির পাশেই বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রশিক্ষন কেন্দ্রটি চালিয়ে আসছেন তিনি। যেখানে ভূমি জরিপ, ডেন্টাল, প্যারামেডিকাল নার্স, পল্লী চিকিৎসক সহ অন্যান্য ১০টি  কোর্স চালু রয়েছে। তবে শর্টকাটে কোটিপতি বনে যাওয়ার জন্য ইকবাল মোল্যা কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা ছাড়াই সার্টিফিকেট দিয়ে যাচ্ছে গোপনে। তথ্য অনুসন্ধানের স্বার্থে নাম ও পরিচয় গোপন রেখে ইনসাফ আহমেদ নামে এক গণমাধ্যমকর্মী ইকবাল মোল্যার কাছে পরীক্ষা ও ক্লাস ছাড়াই সার্টিফিকেট আনতে গেলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২২ হাজার টাকা দিলেই ৫/৬ দিনের মধ্যে ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট (ডিএমএ) সনদ দিতে রাজি হন শাখা পরিচালক ইকবাল। শুধু চিকিৎসক হওয়ার সার্টিফিকেট নয়, ঔষধ বিক্রির লাইসেন্সও স্বল্প মূল্যে দেওয়ার কথা বলেন । এ যেন একের মধ্যে সাত। 

কথা হয় ইকবাল মোল্যার সাথে। তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি এর আগে ক্লাস ও পরীক্ষা ছাড়াই মাত্র ৪জন কে সার্টিফিকেট দিয়েছি। আমার ভুল হয়েছে। তবে এ ধরনের কাজ আমি আর করব না। 


মন্তব্য লিখুন :